Published : 15 Jul 2026, 03:14 PM
গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবার, সাথে ১০টি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর নামে থাকা ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও উল্লেখিত ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এই ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং আরামিট গ্রুপ।
উদ্ধার করা সম্পদের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৫৭ হাজার কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে, এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে ধরা হয়েছে। তবে কোন ব্যক্তির কত সম্পদ জব্দ হয়েছে, সেই বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করতে রাজি হননি। বিএফআইইউর প্রধান আরও জানান, ‘দেশ থেকে যে সম্পদ অপহৃত হয়েছে, তা উদ্ধারের জন্য আমরা সচেষ্ট। আশা করা যায়, এই বছরের শেষ নাগাদ সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ইতিবাচক সংবাদ দিতে সক্ষম হব।’ এই তদন্তের প্রেক্ষাপটে, বিএফআইইউ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সমন্বিত একটি দল এই তথ্য অনুসন্ধান করছে।
সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বিএফআইইউর প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনো দল বা ব্যক্তির দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজের দিকে নজর দিই। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। লেনদেনকারী ব্যক্তি কে, তা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত চলবে।’।